উত্তরদিনাজপুর

তৃনমূলের বহিরাগত দুস্কৃতীদের তান্ডব রায়গঞ্জের পুরসভার নির্বাচনে, ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে চলল গুলি, বোমাবাজি ও মারধর

পুরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের পরিবেশ রায়গঞ্জে।বেলা বারার সাথে সাথে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলছে বোমা,গুলি সহ দুষ্কৃতিকারিদের তান্ডব। নির্বাচনের নামে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ পুর নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ কংগ্রেস-সিপিএম-বিজেপীর। নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালো উভয় দল। আজ সকাল থেকে ২৭ টি আসনের জন্য ৮৫টি বুথে ভোট গ্রহন শুরু হয়। বেলা বাড়তে না বাড়তে প্রায় সবকটি বুথেই  বহিরাগত দুস্কৃতীদের কাজে লাগিয়ে বোমাবাজি করে, গুলি চালিয়ে ভোট লুঠ করেছে শাসক দল তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী বলে অভিযোগ তুলে কংগ্রেস।  বহিরাগত দুস্কৃতীদের কাজে লাগিয়ে বোমাবাজি করে, ছাপ্পা ভোট ,গুলি চালিয়ে  ভোট লুঠ করেছে শাসক দল তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী বলে অভিযোগ করেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাসমুন্সী ও সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য দিলীপ নারায়ন ঘোষ। নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন সিপিএম-কংগ্রেসের ২৭  প্রার্থী। এদিন দুপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে কংগ্রেস - সিপিএম  যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান  দীপা দাসমুন্সী। তিনি আরো জানান রায়গঞ্জ পুরসভার ভোটগ্রহন পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরসভার প্রতিটি বুথেই ব্যাপক বোমাবাজি, গুলি, বুথজ্যাম, ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠে রাজ্যের শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। কার্যত ভোট লুঠ করার অভিযোগ ওঠে তৃনমুল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই আজ এই ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে। তৃনমূলের এই ভোট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সিপিএম কেউই কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। তাই তারা নির্বাচন থেকে সড়ে দারানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সুষ্ঠু পরিবেশে পূর্ণর্নিবাচনের দাবি জানিয়ে আগামীকাল সোমবার বিকেলে  প্রতিবাদ মিছিল ও সভার ডাক দেওয়া হয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম-এর পক্ষ থেকে। এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানান কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাসমুন্সী।

        এই বিষয়ে কংগ্রেস - সিপিএম জোটের ভোট মাঝ পথ থেকে সরে দারানোর পরে বিজেপিও নির্বাচন থেকে সরে দারালো । তৃনমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাস্তা অবোরধ করে বিক্ষোভে সামিল হয়। এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানায় বিজেপিও। আজ রায়গঞ্জে পুরভোটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সরব হলে  জেলার বিজেপি জেলা সভাপতি নির্মল দাম  । তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে রায়গঞ্জে । সকাল থেকেই বেশির ভাগ বুথেই তৃনমূলের গুন্ডা বাহিনীরা সন্ত্রাস চালিয়েছে। অভিযোগ, রায়গঞ্জের বিভিন্ন বুথের দখল নেয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অবাধে তারা ছাপ্পা ভোট দেয় তার সাথে পোলিং এজেন্ট, ভোট কর্মীদের মারধর করে। বিভিন্ন এলাকায় চালায় বোমাবাজি ও এলোপাথারি এবং শূন্যে গুলি চালায়। বিভিন্ন বুথ থেকে তাদের  প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়।   এখানেই শেষ নয়  তৃণমূলের বহিরাগত বন্দুক, পিস্তল দেখিয়ে বয়স্ক লোক সহ মহিলাদের ভয় দেখাচ্ছে। ভোট দিতে আসা সাধারন মানুষদের হাতে কালি লাগিয়ে দিয়ে বলে তাদের ভোট হয়ে গিয়েছে। পুলিশের সামনেই এই সব ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নিরব দর্শকের ভুমিকা পাল করে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি জেলা সভাপতি নির্মল দাম। দুষ্কৃতিদের না ধরে পুলিশ সাধারণ মানুষের উপর লাঠিচার্জ করেছে। এমনকি সাধারন মানুষ আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক দুষ্কৃতিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সাধারন মানুষ প্রতিবাদের সরব হলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষ্যা করতে পারেনি।
           এদিকে জেলা তৃনমূল সভাপতি অমল আচার্য জানিয়েছেন, দু একটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া রায়গঞ্জ পুরসভা নির্বাচন শান্তিতে ও নির্বিঘ্নেই হয়েছে। বিরোধীদল কংগ্রেস  সিপিএম ও বিজেপী এর তোলা অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন  উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি অমল আচার্য।